সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ: বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রতারণা, এবং আপনার জন্য সতর্ক বার্তা
সেন্ট মার্টিন — বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যেখানে নীল জলরাশি আর শান্ত পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করে। কিন্তু আমি বলছি একেবারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে — যদি আপনি পরিকল্পনা ছাড়া যান, বা ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এই স্বপ্নের দ্বীপ আপনাকে শুধু ক্লান্তি আর ঠকে যাওয়ার কাহিনি উপহার দেবে।
পর্ব ১: দিনে গিয়ে দিনে ফেরা — একটা বড় ভুল
- আমার যাত্রা শুরু হয় ঢাকার থেকে টেকনাফ, সেখান থেকে জাহাজে সেন্ট মার্টিন। প্ল্যান ছিল —
সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসব, মানে “ডে ট্যুর”। - কিন্তু বাস্তবে কী ঘটল?
- টেকনাফ থেকে জাহাজ ছাড়ে সকাল ৯টা নাগাদ।
- সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে ১২টা–১টার মতো বাজে।
- তখন দেখা গেল, জাহাজ ঘাটে ভিড়েছে বটে, কিন্তু ভয়াবহ ভিড় —
নামতে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা লেগে যায়! - এরপর আপনি হোটেল বা খাবার খুঁজতে গেলে দেখবেন, ফেরার জাহাজের সময় হয়ে গেছে।
ঘোরাঘুরি বলতে গেলে কিছুই করা যায় না।
পর্ব ২: রাত্রিযাপন না করলে আপনি যা মিস করবেন
- যদি আপনি রাত না কাটিয়ে চলে আসেন, তাহলে আপনি মিস করবেন:
- ছেঁড়া দ্বীপ
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
- কম ভিড়ে নিরিবিলি বীচে সময় কাটানো
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা দেখা
- প্রকৃত সেন্ট মার্টিনকে ‘অনুভব’ করা
- এক কথায় বললে, দ্বীপে গিয়ে দ্বীপ না দেখা — এটাই হয় যারা দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসেন।
পর্ব ৩: ও ফাঁদ প্রতারণা — আমার অভিজ্ঞতা
সেন্ট মার্টিন ঘাটে নামার পর, লোকজন ঘিরে ধরে —
“ভাই, হোটেল লাগবে?”, “চলেন, আমি ভালো জায়গায় নিয়ে যাই”, “ভাই, এইখানে খাইলে ঠকবেন!” — এমন অনেক কথা।
(১) হোটেল প্রতারণা:
- আমি আগে থেকে হোটেল বুক করিনি।
এক লোক আমাকে নিয়ে গেল “ভালো” হোটেল দেখানোর কথা বলে।
কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি — - ঘর অস্বাভাবিক খারাপ
- দর দাম আগের কথার চেয়ে দ্বিগুণ
- লোকজন অদ্ভুতভাবে ঘোরাফেরা করছে
- আমি না বোঝার ভান করে বলি, “দাম বেশি লাগতেছে”, তখন তারা বলে,
“ট্যুরিস্টরা কিছুই বোঝে না, বেশি নিলেও কিছু বলতে পারে না।”
এই কথা শুনেই আমি বুঝে যাই, ভুল জায়গায় এসে গেছি।
(২) খাবার নিয়ে প্রতারণা:
- খাবারের দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করলে বলে, “ভাই, নরমাল দাম।”
কিন্তু খাওয়ার পরে বিল —
এক প্লেট ভাত ১০০ টাকা, এক টুকরো মাছ ৩০০ টাকা! - আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, তখন বলে, “ট্যুরিস্টরা এমনই তো খায়!”
সোজা কথা — আপনি যদি স্থানীয়ের মতো আচরণ না করেন, তবে ওরা আপনাকে পকেট হিসেবে দেখে।
পর্ব ৪: কৌশল — কীভাবে ঠকার হাত থেকে বাঁচবেন
১. আগেই হোটেল বুক করে নিন, বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে বা পরিচিত কারো মাধ্যমে।
২. নিজেকে অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী হিসেবে উপস্থাপন করুন।
৩. কারও সাথে প্রথমে বেশি কথা না বলে, সরাসরি গন্তব্যে যান।
৪. রিকশা বা গাড়িচালককে বলবেন না যে আপনি কিছুই জানেন না — বরং আপনি আগে এসেছেন এমন ভাব করুন।
৫. স্থানীয় দাম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যান, যেমন হোটেল ভাড়া, খাবারের মূল্য, রিকশা ভাড়া ইত্যাদি।
পর্ব ৫: আমার ব্যক্তিগত শিক্ষা
এই ভ্রমণ আমাকে শিখিয়েছে —
“ভ্রমণ মানেই শুধু যাওয়া নয়, বুদ্ধি ও প্রস্তুতি নিয়েও যাওয়া।”
যদি আপনি সময়, পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া যান, তাহলে সেন্ট মার্টিন আপনার স্বপ্ন নয়, হঠাৎ এক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে।


